ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: সতর্কতা মার্কিনিদের, ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৩:০২:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৩:৩০:৩২ অপরাহ্ন
​মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: সতর্কতা মার্কিনিদের, ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক ​ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাত বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই সতর্কবার্তার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো: ইসরায়েল, লেবানন, জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে বিরত থাকার কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হুতিরা ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে, যা যেকোনো সময় মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

শুধু তাই নয়, ইরান ও তাদের সমমনা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মার্কিন নাগরিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের এই উত্তাপের আঁচ লেগেছে ওয়াশিংটনের অন্দরমহলেও। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে রক্ষায় সৌদি আরব মিত্রদের কাছে সাহায্য চাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলার ছক কষছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও সিএনএনের খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান বা ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্প ডেভিডে তাঁর ছুটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং একদিন আগেই হোয়াইট হাউসে ফিরছেন।

তবে এবিসি নিউজ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে আপাতত সৌদি আরবকে কেবল গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখতে পারে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম ইয়েমেনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী অন্যতম প্রধান নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা ও পেরিম দ্বীপ এখন তাদের পূর্ণ দখলে চলে গেছে।

ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশে সৌদি জোটের দেওয়া অবরোধকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে হুতিরা এখন ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে উল্টো সৌদির ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

সংঘাতের এই প্রভাব সরাসরি আঘাত হেনেছে সৌদির জ্বালানি খাতে। একটি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনের (পেট্রোলাইন) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই পাইপলাইন।

রিয়াদ দাবি করছে, ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী মিলিশিয়ারাই মূলত এই হামলা চালিয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিদের রাজধানী সানা দখল এবং ২০১৫ সালে সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সেই যুদ্ধবিরতির পর এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বৃহৎ সংঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ